আকাশ জয়ের নেশা
মিসাইল বানিয়ে আলোচনায় মামা-ভাগনে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-০৪-২০২৬ ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-০৪-২০২৬ ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মামা-ভাগনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘থান্ডারবোল্ড’ নামের রকেট ও মিসাইল ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ছয় মাসের প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেছেন তারা।
জানা যায়, আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা প্রিতম পাল ও তার মামা সুজন চন্দ্র পাল এটি উদ্ভাবন করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।
প্রিতম পাল ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সুজন চন্দ্র পাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
উদ্ভাবক প্রিতম পাল জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তারা কাজ শুরু করেন। টিফিনের টাকা সাশ্রয়, পারিবারিক সহায়তা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করেন।
সুজন চন্দ্র পাল বলেন, আমাদের তৈরি রকেট ও মিসাইল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। তবে সরকারি অনুমতি না থাকায় এখনো এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়নি।
জানান, দুজনই দীর্ঘদিন ধরে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করছেন। এই ধারাবাহিকতায় তারা আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার অর্থায়ন পান এবং একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে স্থান অর্জন করেন।
প্রিতম পাল এর আগে রোবোটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি প্রকল্প তৈরি করে ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। এ ছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় বর্ষসেরা হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তার।
অন্যদিকে, সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে একটি রোবট তৈরি করেন, যা আগুন বা গ্যাস লিকেজের সময় সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। এ উদ্ভাবনের জন্য তিনি ২০২৩ সালের ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
প্রিতম পালের বাবা গৌতম পাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করে। দেশের জন্য কাজ করতে পারলে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় গর্ব হবে।
ওই এলাকার সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের এ উদ্যোগ এলাকায় সুনাম বয়ে এনেছে।
প্রিতমের শিক্ষক আমির সোহেল বলেন, প্রিতম সবসময়ই নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে গবেষণায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
উদ্ভাবক দুই শিক্ষার্থী বলেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজ করতে চাই।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে মেধা চর্চায় সরকারি উদ্যোগ তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমান এবং সেখানে গবেষণায় সফলতা অর্জন করেন। কিন্তু আমরা দেশে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। তবে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের গবেষণায় অগ্রসর হওয়া কঠিন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের তৈরি মিসাইল ও রকেট দিয়ে দেশের সামরিক ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স